banner-ad
lakshmipurtimes

সংস্কৃতি চর্চা (সংকট ও সম্ভাবনা)


২৫ জুলাই ২০১৮ বুধবার, ০৪:৩১  পিএম

ফাহাদ বিন বেলায়েত

লক্ষ্মীপুর টাইমস অ - ..... অ+


সংস্কৃতি চর্চা (সংকট ও সম্ভাবনা)

পলাশ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। স্কুল জীবন শেষ করে কলেজ জীবনে পা দিয়েছে।ছেলেটার মেধা ভালো। গান অভিনয় সব মিলিয়ে স্কুলের, পাড়া-প্রতিবেশী সবার মুখে মুখে তার নাম।

কলেজ জীবনে থিয়েটারে যুক্ত হয়ে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিলো। অভিনয় দেখে মনেই হতো না ছেলেটা অভিনয় করছে। যখন যে চরিত্র তাই ফুটিয়ে তুলতো। দর্শকের ভালোবাসা উঁচু মানুষের সুন্দর মতামত সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিলো। স্বপ্ন বুনেছিলো ভালো অভিনেতা হওয়ার।

পরিবারের কাছে অকর্মা আর গাধা টাইপ ছেলেটা বারবার জীবনের সাথে যুদ্ধ করে ডুবে ছিলো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।পড়া শেষ করে বার বার চেষ্টা করে, এজন সেজন ধরেও একটা ভালো চাকুরী জুটলোনা। শেষ পর্যন্ত বিদেশই পাড়ি দিতে হয়েছে জীবিকার প্রয়োজনে। এইখানেই স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিলো পলাশ এর। এখন বিদেশের মাটিতে বেঁচে থাকার অভিনয় করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এমন অসংখ্য উদাহরণ আমার আপনার চার পাশেই রয়েছে। যারা প্রকৃতভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ভালোবাসে তারা কখনোই কোন কিছু লাভের আশা করে না। এমনকি কেন তারা এই অঙ্গনে সঠিক কোন উত্তর দিতে পারবে না।

আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রবীন থেকে নবীন হিসেব করে দেখলে এর ব্যতিক্রম চোখে পড়বে না। খুব সহজেই বড় বড় মানুষের, সাধারণ মানুষের মন জয় করার এই একটি মাধ্যম হল সাংস্কৃতিক অঙ্গন। এক কথায় যারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে ভালোবাসে তারা উদার মনের মানুষ হয়। তাদের ভিতর আর যাই কাজ করুক লোভ, হিংসা কাজ করে না।তারা একটি সুন্দর সমাজ তথা দেশ উপহার দিতে চায় আগামীকাল প্রজন্মকে।

আমাদের অনেক সমস্যা। আমরা বরাবরই নিজ সংস্কৃতি কর্মীকে মূল্যায়ন করিনা বা করতে জানিনা। বাইরের শিল্পিদের প্রতি আমারা কেন জানি আমাদের দুর্বলতা। অথছ আমাদের নিজস্ব শিল্পিদের চাইলেই আমরা গড়ে তুলতে পারি। এতে করে আমাদের নিজস্ব শিল্পী তৈরি হবে এবং এরাই আমাদের জেলাকে অন্য জেলায় সুন্দর করে উপস্থাপন করবে।

আমরা স্টার অর্থাৎ তারকা শিল্পি হয়ে যাওয়ার পর তার কদর করতে শিখি অথছ কত প্রতিভা আমাদের চোখের সামনে আমরা দেখেও দেখিনা। এমন পরিস্থিতি এবং
সঠিক কর্মসংস্থানের অভাবে, পরিবার, সংসার, জীবনের তাগিদে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় এই সাংস্কৃতিক কর্মীগুলো!

যারা স্বপ্ন দেখে সুন্দর আলোকিত সমাজ গড়ার, যারা স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামী প্রজন্মের, যারা স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামীর বাংলাদেশ। তারা ইচ্ছের আত্মহুতি দেয় অযত্নে, অবহেলায়।

আমি কোন কোটার কথা বলছিনা। শুধু বোঝাতে চাইছি এত বড় বড় মানুষের ভালোবাসা, এত মানুষের হাততালি তবুও সাংস্কৃতিক কর্মীদের জীবন কেন এমন হয়?

ভালো মানুষগুলো সে বড় বড় মানুষরা কি পারে না একই অবস্থান তৈরি করে দিতে? তাদের কাছে কি এটা অসম্ভব কিছু? চাইলেই পারে, কারণ আজ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত হাজারো সংগঠন আছে কিন্তু সাংস্কৃতিক কর্মীদের?

এমনও মানুষ আছেন যাদের বড় বড় ইন্ডাস্ট্রি থেকে কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন কাজে অনুদান দিয়ে থাকেন। সাংস্কৃতিক কর্মীরা টাকা চায় না, একটা কর্ম চায়, সঠিক কর্মসংস্থান চায়। যা দিয়ে তার পরিবার দুবেলা ডাল ভাত খেয়ে চলতে পারবে। সারাদেশের কথা বাদ দিলাম আজ আমার প্রিয় জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের দেখলে আড়ালে কেঁদে ফেলি। তাদের চিন্তা-চেতনা সুন্দর। কিন্তু আজ সঠিক কর্মসংস্থান নেই, নেই সাংস্কৃতিক সুন্দর একটি কাঠামো।

এর জন্য কাকে দায়ী করবেন??

আসুন আমরা সকল বেদাবেধ ভুলে সঠিক স্থানে সঠিক মানুষের মূল্যায়ন করি। সকল সাংস্কৃতিক কর্মীরা এক হই অপর সাংস্কৃতিক কর্মীর পাশে দাড়াই। মেধাবী এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই মিলে চেষ্টা করি একটা অবস্থান করে দিতে কর্ম ক্ষেত্রে।

সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটাই স্লোগান হোক-

"সকলের তরে সকলে আমারা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে"

আপনার মন্তব্য লিখুন:

সাহিত্য এর সর্বশেষ



অন্যান্য বিভাগ

-->