banner-ad
lakshmipurtimes

লক্ষ্মীপুরে জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশ অভিভাবকরা


জানুয়ারি ৬, ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

লক্ষ্মীপুর টাইমস অ - ..... অ+


লক্ষ্মীপুরে জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশ অভিভাবকরা

লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী স্কুলসমূহে জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করছে অভিভাবকরা। বিশেষ করে আশংকাজনক হারে জিপিএ-৫ কমে যাওয়ায় অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা পরিলক্ষীত হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ স্কুল ভালো করলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ কম হওয়ায় দুঃচিন্তায় পড়েছেন শিশুদের অভিভাবকবৃন্দ। 
এ ব্যাপারে অভিভাবকবৃন্দ বলেন, লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়সহ ঐতিহ্যবাহী স্কুলগুলিতে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রী প্রতি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দুই/তিন শত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হলেও পাশের হার জিপিএ-৫ অর্জন করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট সকলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার বলেছেন, সামাদ স্কুলের মতো একটি সরকারী স্কুলে ১৮ বৎসর যাবত রসায়নের শিক্ষক নাই। এছাড়া কোন কোন বিষয়ে দুই শিফটে একজন করে শিক্ষক আবার পদের বিপরীতে ৫০-৬০% কম শিক্ষক দিয়ে একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনা করে কিভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করা যায়? এসব স্কুলে ফল যাই হয়েছে অভিভাবকদের প্রচেষ্টা ও ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে এ ফল অর্জন করেছে তারা।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর কেন্দ্রে ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও মাত্র ৪টি স্কুলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্কুলগুলো হলো আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫টি, বালিকা বিদ্যালয় ৪১টি, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে ২টি, শহীদ স্মৃতি স্কুলে ৩টি জিপিএ-৫ অর্জন করে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভা আরও পায় ১০টি স্কুল বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও স্কুলগুলোতে কোন জিপিএ-৫ পায় নাই। বিশেষ করে কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল, বালিকা বিদ্যা নিকেতন, আমজাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইন্স স্কুল, আজিমশাহ উচ্চ বিদ্যালয়, জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়, পাবলিক স্কুল, হলি গার্লস স্কুল, কেয়ার এডুকেশন স্কুল, বিজয়নগর উচ্চ বিদ্যালয়, গৌরিনগর উচ্চ বিদ্যালয়, বাইশমারা মডেল একাডেমী, খিলাবাইছা বয়েজ স্কুল, খিলবাইছা গার্লস স্কুল, ভবানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, বাঙ্গা খাঁ উচ্চ বিদ্যালয়, পালের হাট উচ্চ বিদ্যায়, চম্পাকা উচ্চ বিদ্যায়, বিজয়নগর বালিকা বিদ্যালয়, রিলেভেল স্কুল, হলিহার্ট স্কুলসহ পৌসভার আশে-পাশে অধিকাংশ স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের জিপিএ- ৫ না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এদিকে জেলার সব চেয়ে ঐতিহ্যবাহী সরকারী প্রতিষ্ঠান আদর্শ সামাদ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪৭ জন অংশগ্রহণ করে ৫ জন জিপিএ-৫ সহ ২০ জন ফেল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল এবং জেলার কাংখিত প্রতাপগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৪১ জন পরীক্ষা দিয়ে মাত্র ১২ জন এ প্লাস পাওয়ায় আশাহত হয়েছেন ঐ এলাকার বাসিন্দারা। লক্ষ্মীপুর পৌর শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩ জন এ প্লাস ও ২৯ জন ফেল, লক্ষ্মীপুরে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে ৭০ জন অংশগ্রহণ করে ২ জন এ প্লাস সহ ১ জন ফেল, লক্ষ্মীপুর কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৪০ জন অংশগ্রহণ করে ৭৪ জন ফেল, লক্ষ্মীপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয় ২৭০ জন অংশগ্রহণ করে ২ জন ফেল ও ৪১ জন এ প্লাস, লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যা নিকেতন ৮৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৩৭ জন ফেল, খিলবাইছা বালিকা বিদ্যা নিকেতনে ৮৭ জন অংশগ্রহণ করে ১৩ জন ফেল, লাহারকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫২ জন অংশগ্রহণ করে ৪৮ জন ফেল, শাকচর জব্বার মাষ্টার হাট স্কুলে ১৫২ জন অংশগ্রহণ করে ৬৭ জন ফেল, পালের হাট হাই স্কুলে ৬৭ জন অংশগ্রহণ করে ১৫ জন ফেল, জন কল্যাণ একাডেমিতে ১১৬ জন অংশগ্রহণ করে ৪২ জন ফেল, কালেক্টরেট স্কুলে ৮০ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন ফেল, বাইশমারা মডেল একাডেমীতে ১৯২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৫৯ জন ফেল, খিলবাইছা বয়েজ স্কুলে ৫৬ জন অংশগ্রহণ করে ১৮ জন ফেল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকবৃন্দ। এছাড়া প্রথমবারের মতো কালেক্টরেট স্কুলে ৮০ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩ জন ফেলসহ কোন প্রকার জিপিএ-৫ না পাওয়ায় আশাহত হয়েছেন অভিভাবকরা। তবে সরকারী স্কুলে কাংখিত ফল না পাওয়ার পেছনে শিক্ষক স্বল্পতাকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এদিকে সরকারী স্কুলগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া অভিভাবকবৃন্দ নামি-দামি প্রাইভেট স্কুলের দিকে ঝুঁকলেও কাংখিত ফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। বিশেষ করে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেয়ার এডুকেশন স্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলের সন্তোষ ফল না পাওয়ায় আগামী দিনে লক্ষ্মীপুরের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। 
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তালেব বলেন, অতিরিক্ত বিষয়ে নাম্বার যোগ না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কাংখিত ফল অর্জন করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করছি এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে অভিভাবকদের প্রত্যাশা পূরণ করবো।
এদিকে ৫ম শ্রেণির ফলাফলে কিছু স্কুল ভালো করলেও অনেক সরকারী ও বেসরকারী স্কুল কাংখিত ফল অর্জন করতে না পারায় শিক্ষক ও শিক্ষক পরিবেশকে দুষচেন। তথ্য নিয়ে জানা যায় লক্ষ্মীপুর শহরের নামি-দামি স্কুল কিছুটা ভালো করলেও অধিকাংশ স্কুল কাংখিত ফল অর্জন করতে পারেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় লক্ষ্মীপুর বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭২ জন এ প্লাস, লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল ৪১ জন এ প্লাস, কাকলী শিশু অঙ্গণ ৩৫ জন এ প্লাস, শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৮ জন এ প্লাস, গার্লস প্রাইমারি ৭৫ জন এ প্লাস, পাবলিক স্কুল ২০ জন এ প্লাস, শামছুল হুদা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ৪ জন জিপিএ-৫, পিটি আই স্কুল ৩০ জন এ প্লাস, হলিহার্ট স্কুল ৪ জন, হলি গার্লস স্কুল ১১ জন, এলিভেনথ কেয়ার স্কুল ৪ জন, কেয়ার এডুকেশন স্কুল ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে একজনও এ প্লাস পায়নি, গ্রীণ টাচ স্কুল ১ জন।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ স্কুল পাশের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। পিছিয়ে পড়া কিছু সরকারী ও প্রাইভেট স্কুল ভালো করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অফিসারবৃন্দ শিক্ষার মান উন্নয়নে আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে।
 

আপনার মন্তব্য লিখুন:



অন্যান্য বিভাগ