banner-ad
lakshmipurtimes

অগ্নিদগ্ধ সীমার পাশে পুলিশ অফিসার জহির


অক্টোবর ১, ২০১৮, ১০:৩০ পিএম

শাহে ইমরান,রামগঞ্জ

লক্ষ্মীপুর টাইমস অ - ..... অ+


অগ্নিদগ্ধ সীমার পাশে পুলিশ অফিসার জহির

সময় অসময়ে আলোচনা-সমালোচনায় পুলিশের খারাপ দিকগুলোই বেশী মুখরোচক হয়ে উঠে। পুলিশ যে জনগনের বন্ধু,আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করার পাশাপাশি তারা যে মানবিক কাজের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তা আমরা ভুলে যাই। দু-একজনের অপকর্মে পুরো পুলিশ বাহিনী আজ সমালোচনায় বিদ্ধ।
তবে পুলিশ বিভাগে রয়েছে হাজারো এসআই জহির যারা সাধারন মানুষকে সহযোগীতার মত মানবিক কাজগুলোও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার বীরমুক্তিযোদ্ধা মফিজ উল্যার ছেলে এসআই জহির ২০০৩ সালে দেশপ্রেম ও দেশের মানুষের প্রতি অগাদ ভালোবাসায় শিক্ত হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতি যোগদান করেন। এর পরে তিনি চাকুরীর সুবাদে সিলেট,হবিগঞ্জ,বরিশাল,খুলনা ও সর্বশেষ লক্ষীপুরের রামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দক্ষতা ও বিচক্ষনতার সহিত নিজের গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রামগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে আইনশংখলার দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কাজে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছেন।
রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর গ্রামের সীমা আক্তার, বয়স ৪ বছর। সন্ধার পর ঘরে কপি বাতির আগুন থেকে আগুন লেগে যায় শরীরে। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই শরীরের একটি অংশে আগুনে ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও রিক্সাচালক বাবা ফাজেল মিয়ার পক্ষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়া সম্ভব ছিলো না। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ এলাকাবাসীর সহযোগীতায় শিশু সীমাকে অবশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হলেও তার বাম হাতটি শরীরের সাথে জোড়া লেগে যায়। অসহায় ও হতদরিদ্র বাবার পক্ষে সীমার চিকিৎসা ব্যায় ভার বা উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে হাতটি শরীর থেকে অপসারন করা সম্ভব ছিলো না। স্থানীয় লোকজন ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সহযোগীতা চাইলে রামগঞ্জ থানার এস আই জহির উদ্দিনের নজরে পড়ে। তিনি খোজ খবর নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা চালায় ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। এস আই জহির উদ্দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও রামগঞ্জ ব্লাডডোনার’স ক্লাবের সহযোগীতা নিয়ে শিশু সীমার উন্নত চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে শিশু সীমা বাড়ীতে ফিরে আসলেও অনুদানকৃত টাকার একটি অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। এস আই জহির রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়ার সাথে আলোচনা করে ব্যাবস্থা নেয় সীমার পরিবারকে একটি ঘর করে দেয়ার। অবশেষে শিশু সীমার পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই করে দিতে হাত দেয়া হয় ঘর নির্মানের। এছাড়াও এস আই জহির বরগুনার জেলার সদর উপজেলার গৌরিছন্না ইউপির খেজুরতলা গ্রামের হতদরিদ্র বিধবা কহিনুর বেগমের একটি গরু দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা যায়। এতে ওই অসহায় পরিবারটির মর্মান্তিক বিষয়টি এসআই জহির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে জানতে পেরে খোজ খরব নিয়ে ওই অসহায় পরিবারটিকে ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনে দেন। এতে করে কহিনুরের পরিবারের মাঝে হাসি ফুটে উঠে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই জহির এ প্রতিবেদককে জানান,
মানবিক ও সামাজিক কাজে আমার বাবা সবসময় ছিলেন অত্যান্ত উদার। ছোটকাল থেকে এই মানবিক বিষয়গুলো আমি আমার বাবা-মা ও পরিবারের কাছ থেকে শিখেছি। আজ পুলিশ বাহিনীতে কাজ চাকুরীর পাশাপাশি মানবিক কাজ করতে পেরে আমি নিজকে গর্বিত মনে করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:



অন্যান্য বিভাগ