banner-ad
lakshmipurtimes

সংরক্ষিত মহিলা আসনে ফরিদা ইয়াসমীন লিকাকে চায় লক্ষ্মীপুর জেলাবাসী


জানুয়ারি ৯, ২০১৯, ১১:৫৪ পিএম

রাজীব হোসেন রাজু

লক্ষ্মীপুর টাইমস অ - ..... অ+


সংরক্ষিত মহিলা আসনে ফরিদা ইয়াসমীন লিকাকে চায় লক্ষ্মীপুর জেলাবাসী

লক্ষ্মীপুর জেলা নারী উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও নারী জাগরনের অগ্রদূত হিসেবে যার নাম সবার আগে উঠে আসে তিনি হলেন ফরিদা ইয়াসমীন লিকা। একটি মফস্বর শহর থেকে আজ তার নাম দেশ ব্যাপি। নিজের যোগ্যতা ও কর্মসাধনায় নারী সমাজের জন্য রাখছেন অসামান্য অবদান। শুধু তাই নয় তিনি একাদারে রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীত শিল্পী, ক্রীড়াবিদ ও শিক্ষিকা। তৃণমূল রাজনীতির সর্বত্রই রয়েছে তার অবাদ বিচরন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে নৌকার পক্ষে প্রচার প্রচারনা করেছেন। দলীয় সকল কাজে ছিল সরব উপস্থিতি। দিয়ে যাচ্ছেন সুদক্ষ নেতৃত্ব। নেতাকর্মীদেরও আস্থার নাম ফরিদা ইয়াসমীন লিকা। তাই তো একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে লক্ষ্মীপুর থেকে বার বার উঠে আসছে তার নাম। জেলা বাসীর দাবি ফরিদা ইয়াসমীন লিকা একজন যোগ্য  ও দক্ষ নেত্রী, তাই তাকেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে মনোনিত করা হোক। এব্যাপারে তৃণমূল নেতাকর্মীরা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
একজন নারী হিসেবে সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত প্রান এ মহান ব্যক্তির জন্ম ২৮ডিসেম্বর ১৯৭৫ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে। পিতা লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মৃত আলহাজ্ব আবুল কাশেম (বি.কম)। মাতা রওশন আরা বেগম। স্বামী শাহজাহান কামাল, যিনি লক্ষ্মীপুর জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। নারী নেতৃত্বের অহংকার ফরিদা ইয়াসমীন লিকা মিরপুর বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক, লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও ¯œাতক এবং নোয়াখালী সরকারী কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেন। সংগ্রামী এই নারী ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেন। তিনি যখন লক্ষ্মীপুর সরকারী কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় তখন ১৯৯১ সালে কলেজ ছাত্রলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও ১৯৯২ সালে কলেজের ছাত্র সংসদের মহিলা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। সেখান থেকেই তার ছাত্র রাজনীতি শুরু হয় এবং দায়িত্ব বহন করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদের। ১৯৯৩ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৩ সালে জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত, ২০০৫ সালে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, ২০১০ সালে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। তিনি জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৯ সালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোট পেয়ে তিনি মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন চেয়ারম্যান মোছলেহ উদ্দিন নিজাম মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও গৌরবের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতি ছাড়াও শিক্ষানুরাগী এই নারী একসময় নিজেও শিক্ষকতা করতেন। তিনি লক্ষ্মীপুর পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু রাজনীতি অঙ্গনে ব্যাপক সময় দেওয়ায় তাকে শিক্ষকতা ছাড়তে হয়। তাছাড়া তিনি গন্ধব্যপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসার সভাপতি, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, শুভাকাংখি।
রাজনীতিবিদ ও শিক্ষানুরাগী এই নারী একাদারে সংগীত শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত সংগীত চর্চা করে আসছেন। সংগীতের প্রতি তার অগাত ভালোবাসায় জেলা পর্যায়ে বারবার প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং কয়েকবার বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। সংগীতে তার এমন সাফল্যে বরাবরই সবসময় জেলা চ্যাম্পিয়ন থাকতেন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী থেকে যৌথ ভাবে তার আধুনিক গানের একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। তিনি বিটিভিতেও বিভিন্ন সংগীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। সংগীত চর্চায় গড়ে তোলেন লহরী সাংস্কৃতিক সংগঠন, যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি এবং বর্তমানে লক্ষ্মীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সভাপতি সহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক, শুভাকাংখি ও উপদেষ্টা। 
ক্রীড়াঙ্গনেও রয়েছে তার ব্যাপক ভূমিকা। জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনেও নিজের নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ করছেন। 
এছাড়াও তিনি জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার জেলা কো-চেয়ারম্যান, হেল্প বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর এর চেয়ারম্যান, বিকশিত নারী সংঘ লক্ষ্মীপুরের সভাপতি, জেলা পুলিশিং কমিটির উপদেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদিত প্রান। মানবতার কল্যানে সবার ডাকে সাড়া দেন এই মহীয়ষী নারী। তাই তো স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ২০১২ সালে শ্রেষ্ট জনপ্রতিনিধি হিসেবে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সম্মাননা পদক, ২০১৩ সালে দি ইনডিপেনডেন্ট ল্যাংগুয়েজ ক্লাব কর্তৃক শ্রেষ্ট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সম্মাননা পদক, ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কর্তৃক শ্রেষ্ট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধু সম্মাননা পদক,  ২০১৭ সালে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য লক্ষ্মীপুর পৌরসভা কর্তৃক সম্মাননা ও ৭১ স্মৃতি সংসদ কর্তৃক সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য মাদার তেরেসা পদক লাভ করেন।   
নারী উন্নয়নের অগ্রদূত এই নারী বর্তমানে জাতীয় মহিলা সংস্থার লক্ষ্মীপুর জেলা চেয়ারম্যান। নারীদের আতœকর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি করা, বিভিন্ন কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্প প্রশিক্ষন সহ নারীদের আতœসাবলম্বি করে তোলাই জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে ফরিদা ইয়াসমীন লিকার লক্ষ্য।
ফরিদা ইয়াসমিন লিকা বলেন, আমি একজন আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান, আমি মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসি, ছাত্র জীবন থেকে আমি ও আমার পরিবার আওয়ামীলীগ সংগঠনের সাথে জড়িত। আমার রাজনৈতিক যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ আওয়ালীগের সভানেত্রী, বিশ্বনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মনোনয়ন বোর্ড  আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশাবাদী। দল আমাকে মনোনিত করলে লক্ষ্মীপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাথে লক্ষ্মীপুরের আতœসামাজিক, নারী উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া অঙ্গণের গতি বৃদ্ধি সহ  জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো।
 

আপনার মন্তব্য লিখুন:



অন্যান্য বিভাগ