• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা


লক্ষ্মীপুর টাইমস | বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০১৭, ০৯:৪৬ পিএম লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকরা

মেঘনার উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে এ অঞ্চলে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হয়। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সয়াবিন লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত হয়ে থাকে। সে কারণে এ জেলা সয়াবিনের রাজধানী হিসেবে খ্যাত। অপর দিকে দিন দিন এই অঞ্চলে বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ। গত বছর সয়াবিন আবাদ হয়েছিল ৪৮ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে এইবার তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে।
স্থানীয় কৃষকদের কাছে সয়াবিন শস্যটি ‘সোনা ফসল’ হিসাবে পরিচিত। এখন রবি মৌসুম। এ সময়ে সয়াবিন আবাদ হয়। তাইতো সোনা ফলাতে বিস্তির্ণ মাঠজুড়ে বীজ বুনেছেন কৃষকরা। উপকূলের বুক ঝুড়ে মাইলেনর পর মাইল এখন কছি সবুজ সয়াবিন গাছে বরে গেছে।
জেলার রামগতি, কমলনগর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় আমন ধান কাটার পরই কৃষকরা সয়াবিন আবাদের প্রস্তুতি নেন। জমিতে রস থাকতে থাকতে চাষ দেন তারা। আইল কেটে নেন, জমির উঁচু-নিচু সমান করেন। আগাচা পরিষ্কার, জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। জমি শুকালে মই দিয়ে মাটি ঝরঝরে করা হয়। সব প্রস্তুতি শেষে সোনা ফলাতে বীজ বুনেন কৃষকরা। ফেব্রুয়ারি প্রথম সপ্তাহে চলতি মৌসুমে সয়াবিনের বীজ বুনা শেষ হয়েছে। কৃষকরা সারিতে এবং ছিটিয়েও সয়াবিনের আবাদ করেছেন। বীজ থেকে চারা উঠতে শুরু হয়েছে। সামনে পরিচর্যার পালা, আগাছা মুক্ত রাখা, প্রয়োজনে সেচের ব্যবস্থা করা। পোকা-মাকড় দমনে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়া। এসব যথাযথ হলে সোনা ফলে। হয় বাম্পার ফলন। কৃষকের মুখে পুটে সুখের হাঁসি।
স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন, মাহাতাব উদ্দিন ও মনা মিয়া জানান, সয়াবিন চাষে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। চাষাবাদ পদ্ধতি সহজ। সয়াবিনে ধানের চেয়ে বেশি দাম পাওয়া যায়। বিক্রি করলে আর্থিকভাবে লাভবান হয় কৃষক। যে কারণে কৃষকদের সয়াবিন চাষে আগ্র বেশি।
জমির মালিক হাবিলদার, জাফর আলী ও সফিক উদ্দনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে চরাঞ্চলে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে অনাবাদি জমি পড়ে থাকতে দেখা যায় না। পড়ে থাকা ওইসব জমিতেও সয়াবিন চাষে সাফল্য আসছে।
জেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। যে কারণে রবি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে। ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। হেক্টর প্রতি ২ থেকে ২.৫ টন উৎপাদন হয়ে থাকে। সয়াবিনের পাতাসহ অন্যান্য অংশ এবং শিকড় অল্প সময়ের মধ্যে পচে-গলে মাটিতে জৈব সার তৈরি করে। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অনেক উন্নত হয়। মাটি হয় পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। সয়াবিন চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে পরবর্তী ফসল চাষে সারের ব্যবহার অর্ধেকে নেমে আসে। উৎপাদন খরচ কমে যায়। ফলনও ভালো হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামার বাড়ি লক্ষ্মীপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলার ৫ উপজেলায় ৫৩ হাজার ৫৩৮ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে রামগতিতে ১৮ হাজার ৬০০ হেক্টর, কমলনগরে ১৮ হাজার ৯০০ হেক্টর, সদরে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর, রায়পুরে ৭ হাজার ৭০০ হেক্টর ও রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৮ হেক্টর । উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ৯৯ হাজার ৬৫৬ মেট্রিক টন।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার  লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হবে। ভালো ফলন পেতে কৃষি অফিস ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছেন। বাণিজ্যিকভাবে সয়াবিন চাষে আমদানি নির্ভরতা কমানো, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি, দারিদ্রদূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব।
তিনি আরো জানান, সয়াবিন তেল জাতীয় শস্য। গাছ ৩০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়। গাছের কান্ডে ফুল হয়। ফুল থেকে শিমের মত চড়াতে বীজ জন্মে, এই বীজগুলোকেই সয়াবিন বলা হয়। সয়াবিন ভোজ্য তেলের প্রধান উৎস। এটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। কচি ও শুকনো সয়াবিন বীজ সবজি ও ডাল হিসেবে খাওয়া হয়। পরিণত সয়াবিন বীজ থেকে শিশুখাদ্য, সয়া দুধ, দই ও পনির, বিস্কুট ও কেকসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার তৈরি হয়ে থাকে। এছাড়াও পোল্ট্রি ও ফিসফিড তৈরি, রং, সাবান এবং প্লাস্টিক মুদ্রণের কালি ইত্যাদি দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সয়াবিন একটি অপরিহার্য উপাদান।


Side banner