• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

করোনাও দমাতে পারেনি রক্তদানকারীদের


লক্ষ্মীপুর টাইমস | অজয় শাহা; প্রকাশিত: মে ১২, ২০২০, ১২:১০ এএম করোনাও দমাতে পারেনি রক্তদানকারীদের

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে পুরোবিশ্ব আজ স্তব্দ। বাংলাদেশে গত ১৭মার্চ থেকেই সতর্কতা জারি হয়েছে। বর্তমানের দেশের সব জেলাই চলছে লকডাউন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও রক্তের প্রয়োজনীয়তা এতটুকুও হ্রাস পায়নি। প্রতিদিনই কারো না কারো রক্ত লাগছেই। অথচ দেশের এমন পরিস্থিতিতে নানা প্রতিবন্ধকতার  কারণে রক্তদান করা প্রায় দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

কিন্তু তারপরেও সকল প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করে নিয়মিত রক্তদান করে যাচ্ছে একদল তরুণ সেচ্ছাসেবী। তাদের সেচ্ছায় রক্তদানের ফলে বাঁচছে কতজনের প্রাণ। তারা রক্তদানে এগিয়ে না আসলে হয়তো রক্তের অভাবে অকালে হারিয়ে যেত অনেক প্রাণ।


প্রতিদিনই কেউ না কেউ রক্ত দিচ্ছেন। কিন্তু এই বিরূপ সময়ে কারণে  রক্তদাতাদের নানা প্রতিকূলতার শিকার হতে হয় । লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদিনই সিজার, থ্যালাসেমিয়া, রক্তসল্পতা, অপারেশন  সহ বিভিন্ন রোগির জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। খুব সামান্য পরিমাণ পারিবারিক লোকজন দিলেও অধিকাংশই ব্যবস্থা করতে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে।

লক্ষ্মীপুর জেলার "পিএলজেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন" নামক একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সভাপতি রাজু হাসানের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বের ন্যায় প্রতিদিনই আমাদের নিকট ৮-১০টা কল আসে রক্তের প্রয়োজনে। আমাদের সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা রক্তদান সচল রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তারা নিজেরাও রক্ত দিচ্ছে আবার রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে নতুন নতুন রক্তদাতা জােগাড়ও করছে।

পিএলজেড এর সহযোগি সংগঠন "পিএলজেড ব্লাড ব্যাংক" এর সভাপতি সিফাত জানান রক্তের প্রয়োজন প্রতিদিনই থাকে। কোন পরিস্থিতিতেই এটা কখনো বন্ধ হবেনা। আমরা আমাদের সদস্যদের নিজস্ব সেফটি ও দুরত্ব বজিয়ে রেখে রক্তদান ও ডোনার সংগ্রহ করার নির্দেশনা দিয়েছি। তারা সে মােতাবেক কাজ করে যাচ্ছে।


"পিএলজেড সোস্যাল অর্গানাইজেশন" রায়পুর উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়ক শুভ্র ঘোষ জানান, করোনার এই পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে শুধুমাত্র রায়পুর উপজেলাতেই ৩৭ ব্যাগ রক্ত আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সরাসরি দান করেছি।

আজও এ সংগঠনের পক্ষ থেকে রায়পুর ও লক্ষ্মীপুরে তিন ব্যাগ রক্ত দান করা হয়েছে।  রক্তদানে কি ধরনের প্রতিকূলতা আছে জানতে চাইলে, শুভ্র বলেন বর্তমানে রক্তদান করা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর প্রধান সমস্যা হচ্ছে যাতায়াত ব্যাবস্থা এবং করোনা আতঙ্কে ডোনারদের রক্তদানে অনিহা। তারপরেও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে রক্তদাতাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীকে দেখা গিয়েছে ভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে। তাদের কেউ কেউ জেলার যেকোন জায়গা থেকে রক্তদাতাদের আসার সুবিধার্থে নিজস্ব মোটরসাইকেলে রক্তদাতাদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন এবং বাড়িও পৌঁছে দিচ্ছেন।


আজ সকালে রায়পুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে  একজন ব্লাড ক্যান্সারের রোগিকে রক্ত দিতে আসা মৃদুল ঘোষ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, "এটি তার ৩য় বারের রক্ত দান" মানবতা থেকে তার কাছে অন্য কিছু বড় নয়। তাই বাসা থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এসেছেন। সবকিছুর পরেও রক্ত দিতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত।


অপরদিকে আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুরে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে পিএলজেড এর সদস্য ও রক্তদাতা শাহাদাত হোসেনের সাথে কথা বললে সে জানান, তাকে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে হয়েছে। তবে তার এই কষ্টের বিনিময়ে একজন মানুষ প্রাণে বেঁচে গেছে তা ভেবে তিনি খুব তৃপ্ত। 


অনেক স্বেচ্ছাসেবী রক্তদানের সময় তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তাদের অভিযোগ হচ্ছে রোগীদের আকুতিতে তারা অনেক দূর থেকে রাত-দিনে, রোদ-বৃষ্টিতে হাসপাতালে উপস্থিত হন রক্তদানের জন্য। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়ার পরে অনেক সময়ই রোগির লোক বলে রক্ত আর প্রয়োজন নেই!

আবার যাদের রক্ত প্রয়োজন হয় তারা রক্ত নেওয়ার পরে ডােনারের সাথে ভালোভাবে আচরণ করে না এআং হাসিমুখে বিদায়ও জানায় না।  


স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী অনেক স্বেচ্ছাসেবী বলেন 
তারা কেবলমাত্র আত্মতৃপ্তি ও সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই রক্তদান করে থাকেন। 


আর তাই হাজার প্রতিকূলতার মাঝে ও করোনার এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা রক্তদান করতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন। সেই সাথে এ স্বেচ্ছাসেবীরাই  বিভিন্ন অসহায় মানুষদের জীবন প্রদীপ জ্বালাতে একান্ত  সহযোগিতা  করছে।

Side banner