• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

করোনার ঝুকিতে লক্ষ্মীপুর সদরের ডাক্তার নার্সসহ ২০জন, দায় ভার কার?


লক্ষ্মীপুর টাইমস | রাজু হাসান প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২০, ০৯:২৯ পিএম করোনার ঝুকিতে লক্ষ্মীপুর সদরের ডাক্তার নার্সসহ ২০জন, দায় ভার কার?

১১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সদর উপজেলা থেকে আগত রোগী করিম (৬৫) (ছদ্মনাম) বুকে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতলে ভর্তি হয়। ইর্মাজেন্সিতে ডিউটি ডাক্তার চেকআপ করে তাকে ভর্তি দেন। যথারীতি উক্ত রোগীর চিকিৎসা চলছিল।

এরই মাঝে মেডিসিন বিভাগের দুজন ডাক্তার ডিউটি অবস্থায় এই রোগীর চিকিৎসা করেছে। ১৩ এপ্রিল ডাক্তাররা সন্দেহ করে উক্ত রোগীর স্যাম্পল করোনা টেস্টের জন্য বিআইটিআইডি'তে পাঠায়। ১৮ এপ্রিল উক্ত রোগীর রিপোর্ট আসলে ততক্ষনে রোগী হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়িতে চলে যায়!
ভাবনার বিষয় হচ্ছে ইমারজেন্সি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত যতজনের সংস্পর্শে এই রোগী এসেছে তারা কি আদৌ নিরাপদ?

সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডাক্তার রুমে ক্রমান্বয়ে পাঁচজন ডাক্তার ডিউটি করে থাকেন। প্রথমে যেই ডাক্তার এ রোগীকে দেখেছেন আল্লাহ না করুক তিনি যদি আক্রান্ত হন তখন বাকি চারজন ডাক্তারের অবস্থা কি হতে পারে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল ১৯ (এপ্রিল) রাতে সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় মেডিসিন ওয়ার্ড সামিয়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হোম কোয়ারেন্টানে পাঠানো হয় ডাক্তার, নার্স ও ব্রাদার সহ ২০ জনকে।

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুল গাফফারকে ফোন করলে তিনি জানান, মেডিসিন বিভাগ লকডাউন বা বন্ধ করা হয়নি। তবে এ ওয়ার্ডে একজন করোনা আক্রান্ত রোগী থাকায় জীবাণুমুক্ত করার জন্য এ ওয়ার্ডের রোগীগুলোকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয় এবং ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্ট্যাফ সহ ১০/১২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

সুচিকিৎসার স্বার্থে রোগীদের উচিত সকল প্রকার তথ্য ডাক্তারদের সাথে শেয়ার করা। তথ্য গোপন করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। তথ্য গোপন করা এ রোগীর জন্য কত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন আমাদের বর্তমান সময়ের মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার, নার্সসহ অন্য স্বাস্থ্য কর্মীরা!

আর হ্যাঁ একটা রিপোর্ট পেতে যদি ৬ দিন লেগে তাহলে করোনা পজেটিভ একটি রোগী ৬ দিনে কতশত লোককে তার অজান্তে আক্রান্ত করে ফেলে! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এদিকে ভালো করে দৃষ্টি দেওয়া খুবই জরুরী। অন্যথা করোনার সংক্রমণ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে এবং এর ঝুকি কমানো আমাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য খাতে যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাধারন মানুষের জন্য, তাদের কথা কি আমাদের একবারও ভাবা উচিত না? আমরা নিজেরাই জানছিনা তথ্য গোপন করে কত বড় অনিশ্চিতের দিকে নিয়ে যাচ্ছি এই জাতিকে। কবে আমাদের বোধ হবে?

Side banner