• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

কৃষ্ণচূড়া এবারও ফুটেছে!


লক্ষ্মীপুর টাইমস | রাজু হাসান; প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২০, ১২:১৭ এএম কৃষ্ণচূড়া এবারও ফুটেছে!

প্রতি বছর ঠিক এ সময়ে কৃষ্ণচূড়া ফুটে গাছে গাছে। এবারও ফুটেছে। অনেক প্রকৃতিপ্রেমীরা কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য লুটতে আসে এই গাছের ছায়ায়। তারা মাটিতে আগুনের মত জ্বলে থাকা কৃষ্ণচূড়া কুড়িয়ে, বাতাসে ভাসিয়ে দিয়ে ক্যামেরার ফ্রেমে সেসব ছবি বেঁধে রেখে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে সবার বাহ বা পেয়ে নিজের মনকে কৃষ্ণচূড়ার লাল রঙ্গে রঙ্গিন করে তোলে। 

অথচ এ ২০২০ সালে নিরবেই ফুটে গেল কৃষ্ণচূড়া ফুল। কিন্তু কেউ এলো না। খবরও নিল না। 
কেমন আছে সবার প্রিয় কৃষ্ণচূড়া। এরি মাঝে কালবৈশাখী কয়েকবার এসে ধুয়ে নিয়ে গেলো কালের জমে থাকা সকল ধূলা ও  কৃষ্ণচূড়া  ফুলের বাহার আর যৌবন। 

কৃষ্ণচূড়ার মধ্যে এক না বলা হাহাকার কবির ছন্দে  ও শিল্পীর তুলিতে ধরা পড়েছে। আক্ষেপের স্বরে কৃষ্ণচূড়ার সে না বলা কথা সে জানিয়েছে। এবছর যুবকটি তার  ভালোবাসার মানুষের চুলের খোঁপায় বাঁধেনি কৃষ্ণচূড়া ফুল।

রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার রঙের সাথে প্রেম ও কামের যে এক সমন্বয়ের দেখা মিলে তা অন্য ফুলের কম মিলে। বলা যায় সুনীল বাবুর বরুণার কথা। বরুনার ভরাট বুকের সুগন্ধি রুমালেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই সুগন্ধি গন্ধ নিয়ে কৃষ্ণচূড়ার দুয়ারে আসলেই ইন্দ্রীয় অতীত হয়ে যাবে নিমেষেই।


রূপ-রঙ ও গন্ধের যূথবদ্ধতায় লাল কৃষ্ণচূড়া চোখের সমীপে ফুটে থাকে, তখন অনেকেই অনবদ্য এই ফুলের মাধুর্য অবলোকন করে আনমনে গেশে যায় শিল্পী কিশোর কুমারের গান- ‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ হাতে হাত, কথাই যেত হারিয়ে।’


হারিয়ে যেতে চাওয়া একটা অভিলাষ মাত্র। প্রতিটি মানুষ হারিয়ে যায় একটা সময়। অতি হতাশায়ও মানুষ হারিয়ে যেতে পারে। তবে কৃষ্ণচূড়া ফুলের কাছে হতাশার যেন লেশমাত্র নেই, আছে কেবলই প্রফুল্লতা। 
কৃষ্ণচূড়া বলেছে, এই করোনার প্রকোটে তোমরা হারিয়ে যেওনা। কালের অভিশাপ একদিন কেটে যাবে। সবার পাপের বোঝাও একদিন হালকা হবে। স্রষ্টা নিশ্চয় তোমাদেরকে, আমাদেরকে ক্ষমা করে এই পৃথিবীটা আবারও নবরঙ রূপে সাজিয়ে তুলবেন। 
সে পর্যন্ত অপেক্ষা করো সৌন্দর্যপিপাসু পথিক।
 

লক্ষ্মীপুর শহর জুড়ে তিনটি কৃষ্ণচূড়ায় বৃক্ষ সবার চোখে পড়ে। একটি হল লক্ষ্মীপুর ডিসি অফিস সম্মুখে আরেকটি লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এবং অন্য দুটি রামগতি ডাইভারশন রোডে পুলিশ ফাঁড়ির উত্তর এবং পুলিশ ফাঁড়ির দক্ষিণে অবস্থিত। বিগত বছরগুলোতে এই কৃষ্ণচূড়া গাছের ছবি লক্ষ্মীপুরের অনেকের সামাজিক মাধ্যমে দোল খেলেও এবার তো একবারই দেখা যায়নি। বলতে গেলে করোনার ভয়ে সেসব সৌন্দর্য সৌন্দর্য পিপাসুরা চার দেয়ালের ভিতরেই আটকে রেখেছে তাদের নয়ন ও দিব্য সৌন্দর্য। 


আল্লাহ হয়তো একদিন আমাদের সবাইকে ক্ষমা করবে। সেদিন হয়তো নতুন করে কতশত ফুলের যৌবন, সৌন্দর্য নয়নে রাখিবো, হৃদয়ে রাখিবো। সে পর্যন্ত সবাই নিজেদেরকে করোনা হতে অনেক দূরে রাখি। 

Side banner