• ঢাকা
  • বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center
কুরবানিতে কামারদের ব্যস্থ জীবন

নিখিল বাবুর নির্ঘুম রাত


লক্ষ্মীপুর টাইমস | রাজু হাসান প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬, ০২:৪০ এএম নিখিল বাবুর নির্ঘুম রাত

ঘড়ির কাটায় রাত তখন ১টা। পারিবারিক বিশেষ কাজে লক্ষ্মীপুর জেলা শহর থেকে বাসায় ফিরার সময় টুং ট্যাং শব্দের আওয়াজ এলো কানে। এগিয়ে গিয়ে দেখা যায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের এস.আর. রোডে সেইফ ডায়াগণষ্টিক এন্ড হিয়ারিং সেন্টারে বিপরীতে জেলা পরিষদের মার্কেটে নিখিল বাবুর দোকানে নিঝুম রাতে এ রকম আওয়াজ।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, নিখিল সুনিল দুই ভাই কামারের কাজ করে। পাকিস্তান সময় থেকে দোকানটি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে তাদের দাদা শারদা চন্দ্র কর্মকার। দিন রাত আগুনে পুড়িয়ে বোতা লোহাকে দেওয়া হচ্ছে দামা, দা, বটি, কুড়াল ও ছুরিররূপ। আবার পুরানোগুলোকে ঘশে মেঝে দেওয়া হচ্ছে ঝকঝকে রূপালি সান। কামারের এ দোকানটি ৫০ বছর যাবত বংশ পরাম্পরায় বর্তমানে পরিচালনা করেছেন নিখিল সুনিল দুই ভাই।

দোকনটি প্রথম শুরু করেন শারদা চন্দ্র কর্মকার। তার পৈতৃকভূমি ছিল নোয়াখালীর চাটখীল উপজেলায়।ছনের খড় দিয়ে তৈরি ছোট্ট কামার ঘরটি শারদার কামার ঘর নামে পরিচিত ছিল তখনকার সময়। শারদা মারা যাওয়ার পর বর্তমানে এ পেশায় যুক্ত হন তার ছেলে রাখাল চন্দ্র কর্মকার। রাখাল চন্দ্র প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এ ব্যবসা করে পরলোক গমন করলে ঐতিহ্য স্বরূপ এ দোকানের হাল ধরেন রাখাল চন্দ্রের দুই ছেলে নিখিল চন্দ্র কর্মকার ও সুনিল চন্দ্র কর্মকার।বর্তমানে এটাই তাদের একমাত্র ব্যবসা।

আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যখন এ পেশা বিলুপ্তির পথে তখন নিখিল ও সুনিল শ্রোতের বিপরীতে একমাত্র মাঝি স্বরূপ বৈঠা বাইছেন। বর্তমান বাজারে চায়নার তৈরি নিম্নমানের বিদেশি ছুরি ও দামা ভরপুর। অতি নিম্নমানের হওয়ায় এসব পণ্য কিছুদিন পরে নষ্ট হয়ে যায়। যাহাকে পরবর্তীতে স্বাভাবিক রূপে আনা যায়না। তাই সরকারের কাছে তাদের আবেদন বিদেশি এসব পণ্য আমদানিতে কঠোর নিয়ম করে আমদানিকারকদের নিরুতসাহিত করে কামার শিল্পকে টিকিয়ে রেখে এর সাথে যুক্ত সকলকে নিঃচিন্তায় ব্যবসা করে যেতে সহযোগিতা করতে। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে তারা এখনো নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছে।

তারা প্রতিদিন সকাল ৮টা বের হয়ে ঘরে ফিরে রাত প্রায় ৩টা থেকে ৪টা। নিখিলের ভাষ্যমতে এ জেলায় প্রায় দুই হাজার কামারের দোকান রয়েছে। কুরাবনির ঈদকে মূলত তারা ব্যাবসায়িক সময় হিসেব করে থাকে। এ মাসে খরচ পাতি বাদ দিয়ে তাদের প্রায় লক্ষাধিক টাকা লাভ থাকবে বলে জানান নিখিল। বছরের বাকিটা সময় কোন রকম পেট চলে।

Side banner