• ঢাকা
  • রবিবার, ৩১ মে, ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

করোনায় কেমন আছে পথশিশুরা


লক্ষ্মীপুর টাইমস প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২০, ১২:৪৯ এএম করোনায় কেমন আছে পথশিশুরা

মাত্র কদিন আগেও রুমান নামের ১০ বছরের যে পথশিশুটি রোজগারের খোঁজে রাজধানীর লোহার পুলের নিচে ঘুরে কাগজ, ময়লা , বোতল, লোহা কুড়িয়ে কিছু রোজগার করতো, করোনার সংক্রমণ রোধে দেশ লগডাউনের কারণে সেটা এখন বন্ধ। তাই  এখন তার খাবারের জন্য নানান জায়গায় ঘুরতে হয়।

কোথাও যদি একটু সাহায্য মেলে। সাহায্য বা ত্রাণের জন্য জনসমাগম স্থলেও যেতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা বিষয়ে তার জানা আছে নাকি জানতে চাইলে সে মাথা নাড়িয়ে ‘না বলে’। রুমানের মতো এমন পথশিশুর সংখ্যা দেশে চার লাথেরও বেশি।

এদের অধিকাংশেরই কোনো পরিবার নেই। আবার অনেকেই পরিবার থেকে পালিয়ে কিংবা পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য পথশিশুদের দলে যোগ দেয়। চরাঞ্চল, নদী ভাঙন, বন্যা কিংবা সাইক্লোন-ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ি হারানো মানুষদের একটি বড় অংশ শহরের বস্তিগুলোতে এসে ঠাঁই নেয়। এই পরিবারগুলো যে চরম দারিদ্র্যের শিকার, তা বলাই বাহুল্য। আর এই দারিদ্র্যের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই শিশুসন্তানদের একটি বড় অংশ পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্যই রাস্তায় নেমে আসে।যাদেরকে আমরা পথশিশু বলছি। ভয়ানক করোনাভাইরাসে দেশের মানুষ যখন আতঙ্কে তখন কেমন কাটছে এই বিশাল অংকের পথশিশুর?

এ ব্যাপারে জানতে আজিমপুর বস্তির পথশিশু রিক্তা বলেন, ‌‌‌মা কইছে করোনা-মরোনা আমাগো ধরবো না, যা খাবার যোগার করে আন, নইলে না খাইয়া মরবি। মার কথা শুনবারগিয়া পুলিশের দৌড়ানী খাইছি। যেখানে ত্রান দেয় ছোট কইয়া লাইন থেকে লোকজন বাইর কইরা দেয়। না খাইয়া আমাদের মরতে হইবো।' 

খবর নিয়ে জানাগেছে, রিক্তার মতো এমন অসংখ্য পথশিশুর আজ অর্ধাহারে অনাহারে।খাবারের জন্য হা-হা-কার করছে তারা। সরকারের সাহায্য তাদের কাছ পর্যন্ত পৌছায় না। 

এদিকে খবর নিয়ে জানা গেছে, পথশিশুদের পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) এবং নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মো. নুরুল বাসির বলেন, ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন সেন্টারে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে পথশিশুদের।

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশের কার্যক্রমের মধ্যেও প্রত্যেকটি সেন্টারে একটি করে আলাদা রুম কোয়ারেন্টিনের জন্য রেখেছি। কারণ বাইরে থেকে যে আসবে সে যদি কারও সঙ্গে মেশে, তাহলে সংক্রমণ হতে পারে। আমরা হয়তো সবাইকে পাঠাতে পারবো না, কিন্তু আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি পথশিশুদের ব্যাপারে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, ‘ পথশিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান নেই বললেই চলে। পরিবেশগতভাবেই তারা নাজুক অবস্থায় আছে। এই দুটি কারণেই তারা ঝুঁকির মধ্যে আছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শিশুদের মৃত্যু হয় কম, কিন্তু বাহক হিসেবে ভূমিকা রাখলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই পথ শিশুদের সুরক্ষায় সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের একটু সহানুভূতি দরকার।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। আক্রান্ত ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারস এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য আইইডিসিআর। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ জনে। মারা গেছে ছয়জন। 

Side banner