• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

"সামাজিক দায়বদ্ধতা"


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নাসির আল ইমরান প্রকাশিত: অক্টোবর ১৩, ২০১৮, ০৬:০৫ পিএম

মানুষ সামাজিক জীব।  সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই মানুষের মূল বৈশিষ্ট্য। মানুষ যেমন সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে তেমনি সমাজের বিকাশ ঘটিয়ে তাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্বও মানুষই পালন করে এসেছে।  সমাজবদ্ধ আরো অনেক প্রাণী এই পৃথিবীতে বসবাস করলেও তাদের কিন্তু সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই এবং তা’ নেই বলে কোন পশুই এটা ভাবে না যে আজই যদি সব হরিণ খেয়ে ফেলি.অন্যরা তবে পরে কি খাবে? কিন্তু মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে।  এই দায়বদ্ধতাই তাকে করেছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।  এই দায়বদ্ধতার কারণেই এক সময়কার আদিম পৃথিবী আজ সভ্যতার চূড়ায়। 

আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে জন্ম নিয়েছি,এর সমস্ত সুফল আমি তিলে তিলে উপভোগ করছি। অনেক মানুষের সম্মিলিত পরিশ্রমে গড়ে উঠা সভ্যতায় সভ্য হয়েছি। এত কিছু ভোগ করার পরে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সমাজ তথা পৃথিবীর জন্য আমার অনেক কিছু করার থাকে।  এই ভাবনাটাই সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উপজীব্য বিষয়।  এই ভাবনা থেকেই কেউ বিজ্ঞানী হয়েছেন, কেউ দার্শনিক হয়েছেন, কেউ সমাজসেবী হয়েছেন।  সকল সুবিধা ভোগি মানুষ হিসাবে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা ভেবে আমাদেরও উচিৎ সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারে অটল থাকা।  যুগে যুগে বহু মানুষ শিক্ষার জন্য বিদ্যাপীঠ ,পথচারীদের বিশ্রামের জন্য সরাইখানা,মানুষের পানি পানের জন্য কুয়া,দিঘী খনন,চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরী, স্রষ্ঠার বন্দনার জন্য প্রার্থনালয় তৈরী করে দিয়েছেন।  এগুলোই সামাজিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ।  মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান-সামাজিক দায়বদ্ধতারই এক সমুজ্জল দৃষ্টান্ত।  সভ্যতার বিকাশের চুড়ায় উঠে বর্তমানে মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রচন্ড অভাব দেখা যাচ্ছে।  মানুষ ক্রমেই হয়ে উঠছে ব্যক্তি
কেন্দ্রীক, বড়জোর ছোট্র পরিবার কেন্দ্রীক।  ফলে মানুষের সামাজিক গতি ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।  সমাজের জন্য তার করণীয় নিয়ে কেউ আর ভাবতে চাইছেন না।  আমরা থেকে আমি,আমাদের থেকে আমার-এই হচ্ছে আমাদের চিন্তার পরিধি। আগে নিজে বাঁচি, পরে সমাজ নিয়ে ভাবা যাবে-এমন হয়ে গেছে আমাদের মানসিক গঠন। সমাজ যতদিন সচল থেকেছে সকলের চেষ্টাতেই থেকেছে। আবার সমাজ যখন গোল্লায়
গেছে, তখন সকলের নির্র্লিপ্ত থাকায়ই গিয়েছে। ভালো মানুষ যখন সমাজ নিয়ে ভাবনা ছেড়ে দেন,তখন খারাপ মানুষ সমাজের নেতৃত্বে আসে। তখন সমাজের গোল্লাযাত্রার সূচনা হয়। মানুষ ক্রমেই তার সামাজিক
দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যায়।  অমানিশার অন্ধকারের মত সার্বিক অবক্ষয়ে সমাজ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তখন সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অভাব দেখা দেয়। এর প্রভাবে সমাজে খুন, ধর্ষণ, মারামারি
কাটাকাটি,ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ-দুর্নীতি,অন্যায়-অবিচার মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়।  অনিশ্চয়তা, অশান্তি, ভয় আর আতংকে সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবন হয়ে উঠে দূর্বিষহ।  সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের
জীবন তো এমন দূর্বিষহ থাকার কথা নয়। জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক থাকার কারণে সামাজিক জীব মানুষের জীবন হওয়ার কথা নিশ্চিন্ত প্রশান্তিময়। কিন্তু মানুষ যখন তার সামাজিক দায়বদ্ধতা সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয় তখন তার সমাজে অধপতন হয়। পরিণাম হিসাবে তার উপর নেমে আসে আজাব গজব। এই সকল আজাব গজবই মনুষ্য সৃষ্ট।  এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে মানুষকেই আবার নষ্ট সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়তে হবে।  অবক্ষয়কে দুর করে আবার সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় ফিরে আসতে হবে। আবার নতুন করে সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার করতে হবে, সমাজের সকলে মিলে। আজ পর্যন্ত এ পৃথিবী যতটুকুই এগিয়েছে তা’ এই সামাজিক দায়বদ্ধতার বোধের কারণেই। ভবিষ্যতেও যত কল্যাণ, যত সমৃদ্ধি হবে, তাও হবে মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণেই। কাজেই মানুষ হিসেবে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরে আসার কোন সুযোগ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতা মানুষের একটি সহজাত অনুপম সৌন্দর্য্য,একটা সহজাত দায়িত্বশীলতা। মানুষের এ দায়িত্ব নেয়ার কারণ? মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী তাই ।

Side banner