• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
Safe Diagnostic Center
হিরা মনি ধর্ষন ও হত্যার প্রতিবাদে রাজু হাসানের কবিতা

মহামারী ধর্ষক


লক্ষ্মীপুর টাইমস | রাজু হাসান: প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২০, ১২:৫২ পিএম মহামারী ধর্ষক

প্রতিটা প্রাণে স্তব্ধতা 
অনেক ভয়ঙ্কর সুর বাজছে।
চারিদিকে করোনার হাহাকার 
সবাই সবার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ছুটছে। 
বাঁচার পথ খুঁজছে জনে জনে, 
কিভাবে আরো বেশি বাঁচা যায়। 

 

কেউ থেমে নেই 
সবাই অনেক বেশি বাঁচতে চায়,
শিয়াল কুকুর হায়নারা সবচেয়ে বেশি বাঁচতে চায়। 
এ সময় ধর্ষকরা চুপসে নেই 
তাদের মাঝে কোন ভয় নেই 
সগৌরব-স্বমহিমায় তারা ধর্ষণ করেই চলছে! 
আহ্ এখন নাকি বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার ত্রাস 
হা মহামারী তো বটেই, ইহা ধর্ষনের মহামারী। 

 

মাঝে মাঝে এ এক টুকরো মাংসপিণ্ডের দিকে তাকালে
চরম ঘৃণায়, লজ্জায় আমাকে সংকুচিত করে রাখে। 
জিজ্ঞেস করি হে বিধাতা 
কেন আমাকে এ মহা পাপদন্ডের অধিকারী করলে? 
তার নিশ্চুপতায়, ইচ্ছে করে চকচকে ছুরিটুকু নিয়ে 
মহাকালের মহামারিটাকে দেহ থেকে আলাদা করে ফেলি।

 

বিশ্বাস করুন নর হিসেবে আর পারছি না এ ভার বইতে 
অসহায় সে বাবা-মায়ের আর্তনাদ নিজের মাঝে শুনি, 
না না এ আত্মচিৎকার আর না
আর সইতে পারছিনা।

 

ওহে সাম্রাজ্যের অধিপতি 
তোমার সুপ্ত বাক তীব্র করো।
হাতে তলোয়ার নিয়ে এখনই টুকরো, টুকরো করো 
কালের অভিশাপ নর্দমার সেই সব কীটগুলোকে, 
যাদের জন্ম অবৈধভাবে কোন নর্দমারই পাশে হয়েছিল। 

 

এ দেশের সভ্য মানুষ নিজেকে আজকাল মনে করিনা 
যে দেশে দিনে রাতে সন্ধ্যায় বিকেলে অহরহ 
অলিতে গলিতে কলেজ যানে কিংবা বাড়িতে 
বাঁচাও বাঁচাও তীব্র চিৎকারে ধর্ষিত হয় আমারই মেয়ে,
সে দেশ মুজিবের কিংবা আমার নয়। 

 

শান্তনাময় বিচারের বাণী বহু শুনেছি 
বহু দেখেছি রঙ্গ তামাশা। 
তনু হতে নুসরাত পর্যন্ত কত শত জনকে দেখেছি 
আজ আবার দেখলাম লক্ষ্মী মেয়ে হিরা মনিকে
নিজ গৃহে ধর্ষিত হয়ে মরতে। 

 

এই দেশে দিনের পর দিন মা মেয়ে বোনেরা ধর্ষিত হয় বিচারের বাণী মানববন্ধন পর্যন্ত টিকে থাকে। 
এরপর আদালতের বারান্দায় দৌড়াতে দৌড়াতে 
ধর্ষিতার পরিবার নিঃস্ব-নিঃসঙ্গ হয়ে যায়। 

 

অতঃপর যুগান্তরের পরে শান্তনার যে রায় আসে 
তা দিয়ে আর যাইহোক 
কলিজার পৃথিবীসম ক্ষতটা শুকায় না। 

 

খুব কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদেরকে এখনি নিতে হবে 
দেশটাকে কি ধর্ষক নামক শকুনদের রাজ্য বানাবো? 
নাকি শকুনদের রুখতে ভয়ংকর, খুব ভয়ংকর আইন করে
তনু হিরা মনিদের পরের প্রজন্মের বাড়ার স্থান করে দিব?

Side banner