• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

সহকর্মীকে নিয়ে ডাঃ সোয়েব হোসেনের দুঃখভারাক্রান্ত লেখা


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রকাশিত: মে ২০, ২০২০, ০১:২৪ এএম সহকর্মীকে নিয়ে ডাঃ সোয়েব হোসেনের দুঃখভারাক্রান্ত লেখা

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কারোনা আক্রান্ত ডাক্তার সহকর্মীকে নিয়ে নিজের দুঃখের কথাগুলোআজ রাত ১২.৪১ মিনিটে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়েছেন ডাক্তার সোয়েব হোসেন। নিচে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো। 


গত কয়েকটা দিন মনটা খুব খারাপ যাচ্ছে l কাছের  সহকর্মীরা দিনে দিনে  করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে l রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা এক সাথে ১১ জন ডাক্তার জয়েন করি এদের মধ্যে চারজনই করণায় আক্রান্ত l 
প্রতিদিন সবার সাথে ফোনে কথা হয় l শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিক ভাবে সবাই  বিপর্যস্ত l  সবার পরিবারে শোকের মাতম চলছে l সবচেয়ে বড় কষ্টদায়ক বিষয়টি হল এলাকার মানুষের বিরূপ আচরণ l এই চারজন সহকর্মীর একজন ডাক্তার তুরিন চৌধুরী চন্দ্রিমা l আমার আর  ওর বাড়ি একই গ্রামে l আজ কথা হয়েছিল চন্দ্রিমার বাবার সাথে l  চন্দ্রিমা তার অসুস্থ বাবা মায়ের শেষ সম্বল l আঙ্কেল কাঁদছিলেন ! সন্তানের এ ধরনের রোগে কান্নাটাই তো স্বাভাবিক l তার উপর যোগ হয়েছে আমার এলাকার কিছু মানুষের উদ্ভট আচরণ  l  আঙ্কেল যেখানেই যাচ্ছেন মানুষজনের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন------

* শুনলাম আপনার মেয়েরে করণা ধরছে? 
* আপনার মেয়ে নাকি খুব অসুস্থ এখন নাকি ঢাকায় আছে শুনলাম? 
* আপনার মেয়ের অবস্থা নাকি ভালো না,  মৃত্যুপ্রায় নাকি? 
* কিছু কিছু মানুষ উনার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন l 
* এলাকার মানুষ বলছে-- ওই বাড়িতে করোনা ধরা খাইছে,  ওই বাড়ির আশপাশ দিয়ে যাওয়া যাবে না l 
* তাদের বাড়ির কাজের মেয়েকে কয়েকজন থ্রেড  দিয়ে বলেছে কাল থেকে যদি ওই বাড়িতে যাস তাহলে তোরে এই বাড়িতে ঢুকতে দিমু না l 
* তার বাড়ির সাহায্য করার মত ছেলে টাকে এলাকার কিছু পোলাপান গালমন্দ করে বলেছে তোর ঠ্যাং ভাইঙ্গা দিমু তুই যদি আর কখনো ওই বাড়িতে পা দিস l


 চন্দ্রিমার বাবা মা অনেকদিন থেকে অসুস্থ l বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী রূপ ধারণ করার পর থেকে তারা  মেয়েকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডরমেটরিতে  পাঠিয়ে দিয়েছেন সেই তিন মাস আগে l আমার এলাকার অনেকেই চন্দ্রিমা ও করোনা নিয়ে অনেক আকাশকুসুম গল্প বানিয়ে ফেলেছেন,  এদের মধ্যে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত উভয় শ্রেণীই রয়েছে l এলাকার মানুষের বিপদে এলাকার ডাক্তার  ই তো এগিয়ে আসে সবার আগে l আজ যখন চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে ডাক্তার নিজে ই আক্রান্ত তখন কারো মুখে শোনা গেলোনা একটু আফসোস ! আমি সবসময় মন থেকে  নিজ এলাকার মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা  করি l চন্দ্রিমার পরিবারের সাথে যেরূপ আচরণ করা হয়েছে হয়তো কাল আমি আক্রান্ত হলে আমার পরিবারের  সাথেও করা হবে l আহঃ দুর্ভাগ্য আমাদের l আমরা উপকারের প্রতিদান চাইনা, চাই আপনাদের একটু সহানুভূতি l 


নিজের জীবন বিপন্ন করে যেসকল স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন তাদের অনেকের সাথেই ঘটছে এ ধরণের নানা অপ্রীতিকর ঘটনা l পরিশেষে বলতে চাই ----
এদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতা বোধ কবে হবে? কবে তারা মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে শিখবে? কোন পুরস্কারের  আশায় স্বাস্থ্যকর্মীদের রাত-দিন পরিশ্রম?  মানুষের বঞ্চনা অবহেলা গালি আর অকৃতজ্ঞতা? এটাই প্রাপ্তি?  হয়তো তাই l দেশের মানুষ গুলোকে আল্লাহ তাআলা সঠিক বুঝ দান করুক l

Side banner