• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত উপকূল


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রকাশিত: মে ২০, ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম লক্ষ্মীপুরে মেঘনার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত উপকূল

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদী উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৩ ফুট পানিতে ডুবে আছে ফসলী মাঠ। এতে ৩৭ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে ৪ কিলোমিটার এলাকায় থাকা নদীর তীর রক্ষা বাঁধও এখন অরক্ষিত। মেঘনার তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে যেকোন সময় বাঁধে ধ্বস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বুধবার (২০ মে) দুপুর আড়াইটার পর থেকে মেঘনায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। ৩টার দিকে মেঘনার পানি উপকূলে ঢুকে পড়েছে। প্রায় ৩ ফুট পানিতে ডুবে আছে উপকূলের ফসলী মাঠ। স্থানীয়দের দাবি জোয়ারে নদীতেই ৬ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পান ১০ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সাগর ও নদী উপকূলীয় অন্যান্য জেলার সঙ্গে লক্ষ্মীপুরেও ১০ নাম্বার মহাবিপদ সংকেত দেখানো হচ্ছে। দুপুর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে মেঘনা। স্রোত আর ঢেউয়ে বেড়েছে তীব্রতা। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে ঢুকে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ফসলী ক্ষেত ৩ ফুট পানিতে ডুবে আছে। এই ঝুঁকিতেও শতাধিক নৌকায় জেলেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত রয়েছে। কিন্তু জেলদেরকে উঠিয়ে আনতে প্রশাসন কিংবা স্বেচ্ছাসেবী কাউকেই নদী এলাকায় দেখা যায়নি। 

 

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদর থেকে কমলনগর হয়ে রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন কবলিত। এরমধ্যে ৪ কিলোমিটার এলাকা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ রয়েছে। তবে বাঁধের দুই পাশেই খালি। এজন্য মেঘনার তীব্র স্রোত ও ঢেউ দুই পাশ থেকে বাঁধে আঘাত করছে। এতে উপকূলের বিস্তির্ণ অঞ্চলসহ বাঁধটিও হুমকিতে রয়েছে। যেকোন সময় বাঁধে ধ্বস নামতে পারে। 

 

কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফসলী ক্ষেতের পাশাপাশি মতিরহাট ও চরকালকিনি এলাকার বসতবাড়িতে মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। ধীরে ধীরে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আবার ওই এলাকায় শুধু মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়া আর কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই। ঘূর্ণিঝড় আম্পান যদি ১০ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে পরিণত হয়, তাহলে পুরো উপকূল লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

 

জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগ সূত্র জানায়, রামগতি ১ কিলোমিটার, আলেকজান্ডারের সাড়ে তিন কিলোমিটার ও কমলনগরের এক কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। সেসব স্থানে তেমন কোন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে যেসব স্থানে বাঁধ নেই, সেসব স্থান খুব ঝুঁকিতে রয়েছে। যেমন মেঘনার লুধুয়া, চরফলকন, মতিরহাট, কালকিনিসহ বিস্তির্ণ এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে আছে।

 

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, মেঘনায় পানির উচ্চ কতটুকু বেড়েছে তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি। আম্পান আঘাত করলে এটি নির্ণয় করা হবে। এখনো স্বাভাবিক জোয়ার চলছে। মেঘনা উপকূলীয় পুরো এলাকায় ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে উপকূল রক্ষায় আমাদের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Side banner