• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

রামগঞ্জে সরকারি নির্দেশনা না মেনে আদায় হচ্ছে কিস্তি


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২০, ১২:১৭ পিএম রামগঞ্জে সরকারি নির্দেশনা না মেনে আদায় হচ্ছে কিস্তি

করোনা ভাইরাসের মহামারী মধ্যে এনজিওগুলোকে ঋণের কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধের সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন এনজিওগুলো কিস্তি আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কাজ না থাকায় কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করায় বিপাকে পড়েছেন ঋণ নেওয়া সাধারণ মানুষ।

 

গত রোববার (৩১ মে) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলেছে অফিস আদালত। ঘরবন্দি লোকজনও নেমেছেন কাজে। এ পরিস্থিতিতে এনজিওগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে কিস্তি আদায়ের। কোথাও কোথাও কিস্তি আদায়ে ঋণগ্রহীতাদের চাপ দেয়ারও অভিযোগ আসছে।

 

রামগঞ্জে আশা, দিশা, পেয়াজ, প্রিজম, গ্রামীণ, ব্রাকসহ ২০টির মতো বিভিন্ন এনজিও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব এনজিওগুলোর কর্মীরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তি টাকা আদায় করছেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটি জুন পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণের বিপরীতে কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধ করলেও স্বাভাবিক জীবিকায় ফিরে আসতে পারে নাই অনেকে।

 

এবিষয় দিসা, পেয়াজ, প্রিজম, নামের দুটি এনজিওর কর্মীর সাথে কথা বললে তাঁরা জানায় আমরা অফিস ম্যানেজারের নির্দেশনা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি তাঁর জন্য আমরা আসছি।

 

গণমাধ্যম কর্মী পেয়াজ এনজিও অফিসে গেলে সাংবাদিকের উপস্থিতিতে হিসাব রক্ষক তোপুরা আক্তার বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বাহির হয়ে যান ম্যানেজারসহ অফিসের অন্য কর্মীরা।

 

মোঃ সাদ্দাম হোসেন, আব্দুর রহিমসহ এলাকাবাসী বলেন, আমরা বাজারে ছোটখাটো দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করি। তবে করোনার বিস্তারের কারণে সরকারিভাবে ২৪ মার্চ থেকে গত ৩১ মে,পর্যন্ত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী সকাল থেকে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এ কারণে আমাদের তেমন কোনও আয় নেই। এরমধ্যে ব্রাক, প্রিজম, দিশা, সহ অন্য এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপ দিচ্ছেন।

 

প্রিজম,কেন্দ্রের মাঠকর্মী মোঃ রাসেল, তোপুরা আক্তার, মোঃ ইমন হোসেন জানান, আমরা বকেয়া আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়েছিলাম, মূলত মেয়াদোত্তীর্ণ যে সমস্ত কিস্তি রয়েছে তার টাকা তুলতে। কিস্তি আদায়  বন্ধের কোনও নির্দেশনা আমরা পাইনি।

 

এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে করোনার বিস্তাররোধে জনগণকে বাড়িতে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে করে কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে, এ অবস্থায় কিস্তি আদায় কার্যক্রম বন্ধের জন্য এনজিওগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরেও আজ বেশ কিছু এনজিওর কর্মীরা গ্রাহকদের বাড়িতে কিস্তি আদায়ের জন্য গিয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। নির্দেশনা অমান্য করে কিস্তি আদায়ের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে সেক্ষেত্রে আপত্তি নেই।

Side banner