• ঢাকা
  • বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

রায়পুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যদের লিখিত অনাস্থা


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২০, ০২:৫১ পিএম রায়পুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যদের লিখিত অনাস্থা

দুর্ণীতি ও অর্থ আত্মসাৎসহ ২২টি অনিয়মের অভিযোগ এনে পরিষদের সদস্যরা (মেম্বার) ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ঘোষণা করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে (১১জুন) ৭ মেম্বার তাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্দে তাদের অনাস্থার লিখিত অভিযোগ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চর আবাবিল ইউনিয়নের ৭ মেম্বার । এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি পরিষদে ও আ’লীগ নেতাদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


শুক্রবার (১২ জুন) জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে জানাযায়, পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন বেপারী দায়ীত্ব নেয়ার পর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভুয়া প্রকল্প তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। পরিষদের সদস্যদের না জানিয়ে নীজের ইচ্ছেমত-ভিজিএফ, ভিজিডি, এলজিএসপি প্রকল্প, ৪০দিনের কর্মসূচি, হতদরিদ্রদের বরাদ্দ, কাবিখা প্রকল্প, ওয়ান পার্সেন্টসহ প্রতিটি খাতে অনিয়ম করে আসছেন।


অধিকাংশ পরিষদ সদস্য জানান, আমরা তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারি না। প্রতিবাদ করতে গেলেই চেয়ারম্যান আমাদের উপর চড়াও হন ও বিভিন্নভাবে অপমান অপদস্ত করেন।


আরো জানা যায়, ওই চেয়ারম্যানের দূর্নীতি-অনিয়ম অর্থ আত্মসাৎ,স্বজনপ্রীতিসহ স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে ৮ মেম্বার মিলে অনাস্থা এনে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম, শাহআলম, মুসলিম, হারুন মিজি, বুলবুল, সংরক্ষিত নারী সদস্য-মরিয়ম বেগম, ফিরোজা বেগম জেলা প্রশাসকের কাছে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

জেলা প্রসাশকের কাছে করা ২২টি দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্যে কর আদায়কৃত অর্থ আত্মসাৎ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ১% উন্নয়ন খাতের তিন লক্ষ টাকা, ৪ ও ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য ভাতার বৃহৎ অংশ আত্মসাৎ, ৭ নং ওয়ার্ডের ভিজিডি কার্ডের সদস্যদের চাউল আত্মসাৎ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যদের বাদ দিয়ে বেনামে প্রকল্প কমিটি করে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন পুর্বক আত্মসাৎ, দরিদ্র বিমোচনে খাল পুনঃ খনন, পানি নিস্কাসনের একাধিক প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ, ৯নং ওয়ার্ড ভিজিডি কার্ড দুর্নীতি, চেয়ারম্যান পুত্র ফয়সলের নামে ন্যায্য মুল্যের চাউলের ডিলারশীপ দিয়ে দুর্নীতি।

 

 ভিজিডি কার্ডে অনিয়ম করায় চেয়ারম্যানের ছেলেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এছাড়াও পরিষদের মাত্র তিনজন সদস্যকে পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডের প্রকল্প কমিটির সভাপতি দেখিয়ে ৯টি ওয়ার্ডের প্রকল্প সম্পাদনে টাকা উত্তোলন, অসহায় ভুমিহীনদের মাঝে সরকারী গৃহনির্মাণ প্রকল্পের প্রতিটি ঘর বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া সহ আরো বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সঠিক তদন্ত করে চেয়ারম্যান নাছির বেপারীর পদ ত্যাগ দাবী করেছেন মেম্বাররা।

 

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন ব্যাপারি জানান, আমার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া ২২টি অভিযোগই মিথ্যা। মেম্বারদের অনিয়মের প্রতিবাদ করা, বিধিবহির্ভুতভাবে ভাতা না দেয়ায়, দলীয় কোন্দল এবং সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক একটি পক্ষ মান সম্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্য এসব ষড়যন্ত্র করছেন। যে ৭ জন মেম্বার অভিযোগ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও লিখিতভাবে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

Side banner