• ঢাকা
  • বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

ডা: ফাতেমা ও সেইফ ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের প্রতিবাদ


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২০, ১১:৪৪ পিএম ডা: ফাতেমা  ও সেইফ ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের প্রতিবাদ

সুপ্রিয় লক্ষ্মীপুরবাসী আসসালামুআলাইকুম।

  সুধি গত ১১ জুলাই রাত ১১টা ২৯ মিনিটে (M.D. Kamrul Islam) নামক ব্যাক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাসে আমরা দেখতে পাই ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরার সম্বন্ধে তিনি বিভিন্ন প্রকার ভুল ও মিথ্যা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে উপস্থাপন করে উক্ত  ডাক্তারকে হেয় ও প্রতিপন্ন করার জন্য এবং লক্ষ্মীপুর জেলার স্বনামধন্য স্বাস্থ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সেইফ ডায়াগণষ্টিক এন্ড হিয়ারিং সেন্টার (এস. আর. রোড, সদর, লক্ষ্মীপুর) এর  দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য  উদ্দেশ্যমূলকভাবে উক্ত ব্যক্তি (M.D. Kamrul Islam) সম্পূর্ণ  মিথ্যে একটি স্ট্যাটাস সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে যা অনেকেই যাচাই না করে ভাইরাল করেছে!

উক্ত রোগীকে সিজার করা ডেট দেওয়া হয় বিকেল ৪টা। বিকেল ৪টা ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা উক্ত রোগী  নাহার বেগমকে (জনাব কামরুল ইসলামের স্ত্রী) তার অভিভাবকের সম্মতিক্রমে (মা  কাগজে স্বাক্ষর করে), আবারো বলছি ঠিক ৪টা সিজার  বা অপারেশন শুরু করেন।

উল্লেখ্য যে, বিগত ৪ জুলাই তারিখে সিজারের পূর্বে এ রোগী কখনো এই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়নি, ঠিক যখনি বাড়িতে তার প্রসব ব্যথা উঠেছিল ঠিক ওই দিনই তিনি এই ডাক্তারকে দেখিয়েছেন এবং ডাক্তার ফাতেমা আলট্রাসনোগ্রাফি করার পরে শিওর হলেন যে উনার (নাহার বেগম) সিজার  করা জরুরী ( এটি রোগীর দ্বিতীয় সন্তান, প্রথম সন্তানও সিজার  অপারেশনে  জন্মেছিল যার কারণে দ্বিতীয় সন্তানের বেলায় সিজার করার প্রয়োজন পড়েছে)।

 

ডাক্তার ফাতেমা ওটি রুমে নিয়ে যখন স্কিন দিয়েছেন বা ওপেন করেছেন তখন তিনি দেখলেন অ্যাডিশন (প্রথম সন্তানের সিজার যখন হয়েছিল তখন জরায়ুর আশেপাশে পেটের যেসব অর্গান সমূহ রয়েছে আত/খাদ্যনালী, সেসব একটার সাথে আরেকটা জোড়া লেগেছিল) হয়েছে তাই তিনি আর জরায়ু ওপেন করেন নাই (জরায়ুতে মূলত সন্তান থাকে)।

 

তখন উক্ত ডাক্তার দেখলেন যে পেটের এই অর্গান সমূহের জোড়া না খুলে আলাদা না করলে পরবর্তীতে এ রোগীর পেট পচন্ড ব্যাথা তৈরী হবে তাই এসব এ্যাডিশন সূমহ আলাদা    করে আবার সেলাই করতে জটিল প্রক্রিয়া তৈরি হতে পারে, তাই তিনি রোগী  ও তার গর্ভের সন্তানের শতভাগ সেইফটির কথা চিন্তা করে নিজেই সিনিয়র ও অভিজ্ঞ সার্জন ডাক্তার জান্নাতুল ফেরদৌস রুনাকে কল করলে ডাক্তার রুনা ৫-১০ মিনিটের মডেল হাসপাতালের ওটিতে চলে আসেন এবং তখন ডাক্তার রুনা মেইন সার্জারি শুরু করেন (জরায়ু ওপেন করেন)  ও ডাক্তার ফাতেমা ডাক্তার রুনার সাথে এসিস্ট করেন।


এখন প্রশ্ন হলো একজন মা ও বাচ্চার জীবন বাঁচাতে পেটের ভিতর এ্যাডিশন (জটিল অবস্থা) দেখে এজকন সিনিয়র সার্জনকে ডাকা নিশ্চয়ই কোন অপরাধ বা ভুল নয়?

এর ভিতরে ডাক্তার রুনা সকল অ্যাডিশনগুলো ক্লিয়ার করে পুনরায় সেগুলো সেলাই করেন। বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে (মাএ ১ঘন্টা) উক্ত ওটি‘টি  সফল ভাবে সম্পূর্ণ হয়।

এবার আসুন দেখে নেয়া যাক এই ব্যক্তি (M.D. Kamrul Islam) কি ধরনের মিথ্যাচার করেছেন:

 

১ম:
তিনি বলেছেন বিকেল ৫টা রোগী হসপিটালে ভর্তি হওয়ার কথা কেননা ৫টায় সিজার হবে (যদি ডাক্তার বিকেল ৫টা সিজারের টাইম দিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ১/২ ঘন্টা আগে আপনাকে অ্যাডমিশন করাতে হবে এবং অন্যান্য প্রিপারেশন সহ মেন্টাল প্রিপারেশনের জন্য) কিন্তু ডাক্তার ওনাকে সিজারের টাইম দিয়েছেন বিকেল ৪টা আর সে জন্য ওনারা দুপুর ২টা (সিজারের ২ ঘন্টা পূর্বে) হসপিটালে ভর্তি হয়েছে।

 

২য়:
তিনি বলেছেন অভিভাবক ছাড়াই অপারেশন এ নিয়ে যায় অথচ তখনও রোগীর সাথে তার মা অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত ছিল। অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে আমরা দেখেছি রোগীর মা-মাশকুরা ভেবেচিন্তে স্বাক্ষর করেছেন।

৩য়:
তিনি বলেছেন পেট কাটার পরে বাচ্চা নেই বলেছেন ডাক্তার ফাতেমা। এটা ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা কখনই তাদেরকে এ কথা বলেনি বরং বলেছেন রোগির পেটে এ্যাডিশন  আছে আরেকজন সিনিয়র সার্জন প্রয়োজন।

আর এত বড় একটি বাচ্চা পেটে না থাকার কোনো কারণ নেই। আর ডাক্তার ফাতেমা তখন পর্যন্ত জরায়ু ওপেন করেননি (মূলত জরায়ুর ভিতর বাচ্চা থাকে)। জরায়ু ওপেন না করে কেউই বাচ্চার কোন অবস্থা বলতে পারেনা।

৪র্থ:
তিনি (M.D. Kamrul Islam) বলেছেন ডাক্তার রুনা আসতে সময় লাগে 2 ঘন্টা 30 মিনিট। এটা 100% মিথ্যে কথা, ডাক্তার রুনা  ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই হসপিটালে চলে এসেছেন। কেননা উক্ত হসপিটাল থেকে ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে ডাক্তার রুনার প্রাইভেট চেম্বার এবং তখন তিনি চেম্বারে রোগী দেখছিলেন। অন্য আরেকজন ডাক্তারের কল পেয়ে তিনি নিজ চেম্বারে রোগী  রেখেই ওটিতে চলে এসেছেন। কেননা একজন ডাক্তারের ধর্ম হচ্ছে রোগীর জীবন রক্ষার্থে সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করা।

  ৫ম:
  তিনি (M.D. Kamrul Islam) বলেছেন ৬ ব্যাগ রক্ত লেগেছিল অথচ রক্ত লেগেছে মাত্র ১ ব্যাগ যাহা স্বাভাবিক যেকোন সিজারেই লেগে থাকে। এখানে আরেকটি ব্যাপার লক্ষণীয় যে রোগীর বিপি বা ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক ছিল ও ১ম দিনই  তার ব্লিডিং রেঞ্জ নরমাল ছিল।

৬ষ্ঠ:
তিনি (M.D. Kamrul Islam)লিখেছেন তার স্ত্রী এখনো শঙ্কামুক্ত নয় অথচ ৪ তারিখ সিজার হওয়ার পর থেকে মাত্র ৪দিন তারা হসপিটালে থেকেই হসপিটাল থেকে স্বেচ্ছায় রিলিজ নেয়। আর উক্ত ব্যক্তি পোস্ট করেছেন অষ্টমতম দিনের শেষ লগ্নে (11.29pm)!
যদি ঘটনাটা সত্যি হতো তাহলে কেন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে তিনি পোস্ট করেননি অথবা রিলিজ হওয়ার সাথে সাথে কেন তিনি পোস্ট করেননি?

৭ম:
সর্বশেষ তিনি বলেছেন অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তার মাযের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে অপারেশন করে অথচ আমরা জেনেছি/দেখছি ডাক্তারের দেওয়া সময় অনুযায়ী বিকেল ৪টা অস্ত্রোপচারের সম্মতিপত্রে রোগীর মা-মাশকুরা ভেবেচিন্তে সুস্থ মস্তিষ্কে তার মেয়ে এবং মেয়ের  গর্ভের সন্তানকে বাঁচাতে সম্মতিপত্র স্বাক্ষর করেছেন।

 

যদি মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক তার মেয়েকে ছিনিয়ে নিত তাহলে কিন্তু রোগী মায়ের করা এই স্বাক্ষরটি স্বাভাবিক স্বাক্ষর কখনো হতোনা বরং আঁকাবাঁকা থাকতো।

 

এই পোস্ট আমাদের চোখে পড়ার পর থেকে আজ অবধি আমরা সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য ডাক্তার, নার্স,  ওটি বয়, রোগীর বড় ভাই (Belal Hossen), রোগীর স্বামী (M.D. Kamrul Islam) এবং মডেল হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার বসে/ফোন আলাপের মাধ্যমে সত্য ঘটনা উদ্ঘাটনের আন্তরিক চেষ্টা করেছি।

 

আমরা উক্ত রোগীর রিলিজ হওয়া পর্যন্ত হসপিটালের সমস্ত ডকুমেন্ট আপনাদের সামনে উত্থাপন করছি।

 

লাল মার্ক করা লেখাগুলো পড়লেই আপনারা বুঝবেন যে রোগীর স্বামী (M.D. Kamrul Islam) যে পোস্ট করেছে তা সম্পূর্ণই মিথ্যে, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সমাজের সচেতন ব্যক্তিদেরকে আমরা অনুরোধ করছি উক্ত পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য এবং এসব কুচক্রীদেরকে সাবধান করার জন্য। অন্যথায় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার মানসিকতা অনেকেইর ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

এর মাঝে আমরা আরো জেনেছি, গত ৪জুলাই সিজার হওয়ার পর থেকে একটি কুচক্রী মহল রোগীর স্বজন এবং স্বামীকে (যিনি ময়মনসিংহে কর্মরত এবং ময়মনসিংহ বসেই তিনি কুচক্রীদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ধরনের নোংরা একটি লেখা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করে থাকেন) ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরার বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে ডাক্তার ফাতেমাকে জিম্মি করে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ডাক্তার ফাতেমা নৈতিকভাবে সৎ থাকার কারণে এবং কোন প্রকার অপরাধ না করাতে ও অন্যায়ের আশ্রয় না নেওয়াতে তিনি কোন প্রকার অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত না হওয়ার ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে থাকেন।

 

উল্লেখ্য যে, রোগীদের আর্থিক ও মানবিকতার কথা চিন্তা করে ডাক্তার ফাতেমা উক্ত অপারেশন থেকে কোন প্রকার অর্থ গ্রহণ করেননি এবং অপারেশনের পূর্বে যে ধরনের টাকার কথা তাদেরকে বলা হয়েছে (ঔষধ ছাড়া) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিক সে পরিমাণ টাকাই তাদের কাছ থেকে নিয়েছে।

 

মাত্র কয়েকদিন পর দেখা যায় M.D. Kamrul Islam তার ভুল বুঝতে পেরে ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যম থেকে উক্ত পোস্টটি ডিলিট করে দেন। কিন্তু ততদিনে এই অপপ্রচার বাংলাদেশ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। যার কারনে ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা সামাজিকভাবে মারাত্মক হেয় প্রতিপন্নের শিকার হন এবং যা তার মান সম্মানে ব্যাপক আঘাত হানে।

  বর্তমানে ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা উক্ত পোস্টকারি এবং শেয়ারকারীদের বিরুদ্ধে  আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।

 

পরিশেষে আমরা সেইফ ডায়াগনস্টিক এন্ড হিয়ারিং সেন্টারের পক্ষ থেকে বলতে চাই,  সত্য ঘটনা উপস্থাপন না করে, যে বা যারা সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন সেই সাথে ``সেইফ ডায়াগনস্টিক এন্ড হেয়ারিং সেন্টার‘‘ এর সুনাম  ক্ষুন্ন করেছেন তাদের এমন জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃনা জানাই।

সেই সাথে সে বা তারা যদি ডাক্তার ফাতেমা তুজ জোহরা এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের (সেইফ) নিকট ক্ষমা না চায় তাহলে আমরা যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

গুজবে কান দিবেন না ও গুজব প্রচার করবেন না।
সত্য জানুন, সত্য প্রচার করুন।

Side banner