• ঢাকা
  • বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭
Safe Diagnostic Center
খাদ্যগুদামের ভেতরেই চলে দর-কষাকষি

কাবিখা টিআরের টন টন চাল গম কালোবাজারে বিক্রি


লক্ষ্মীপুর টাইমস | নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২০, ০১:২১ পিএম কাবিখা টিআরের টন টন চাল গম কালোবাজারে বিক্রি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের বরাদ্দ চাল-গম কম দামে কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে। খোদ উপজেলা খাদ্যগুদামের ভেতরেই চাল-গম সিন্ডিকেটের দর-কষাকষিসহ নিয়মিত কার্যক্রম চলে। যথাযথ তদারকি না থাকায় প্রকল্পের সভাপতিরা কোনো কাজ না করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মিলেমিশে পকেট ভারী করে চলছেন। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে ফের অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়েন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা।

 

জানা গেছে, রাস্তা-ঘাট ও অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য সরকার প্রতি বছর কাবিখা ও টিআরের চাল-গম বরাদ্দ দেয়। কিন্তু প্রকল্পের সভাপতিরা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেন ও উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারেকুল আলমকে ম্যানেজ করে তা সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেন। সচেতনমহল এগুলোকে ‘লুটপাটের প্রকল্প’ নামেই জানে। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কমলনগর সরকারি খাদ্যগুদামের ভেতরেই বিভিন্ন প্রকল্পের চাল-গম কেনাবেচা হয়। ওসিএলএসডির সহযোগিতায় মতলববাজ ব্যবসায়ীরা কম দামে প্রকল্পের সভাপতির কাছ থেকে বরাদ্দের বিলি আদেশ নেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতার প্রভাবে ওসিএলএসডি চক্রের কাছে চাল-গম বিক্রি করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২ জুলাই কমলনগর ইউএনওসহ লক্ষ্মীপুরে কর্মরত সরকারের শীর্ষস্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযান চালান। এ সময় হাজীরহাট বাজারে সরকারি গুদামের সামনে অবস্থিত শেখ ফরিদের গুদাম থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৬ টন চাল ও ২০ টন গম মজুদ পাওয়া যায়। পরে গুদামঘর সিলগালা করা হয়। ওই রাতেই বাজারের সাহাব উদ্দিন রনির গুদামে অভিযান চালিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ১১৬ বস্তা গম পাওয়ায় গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। পরে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের গুদাম থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত গম জব্দ করা হলেও মালিক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
 

এদিকে চাল-গম জব্দের ঘটনায় জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রামগঞ্জের খাদ্য নিয়ন্ত্রক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জব্দ করা চাল-গমগুলো কাবিখার বলে নিশ্চিত হয়েছি। প্রকল্পের সভাপতিরা তা বিক্রি করেছেন। তবে আইনগতভাবে এসব বিক্রির নিয়ম নেই। এ ব্যাপারে আমার একটি প্রতিবেদনও দাখিল করেছি।’
 

প্রতিবেদনটি ঘেঁটে দেখা গেছে, এতে ওসিএলএসডি তারেকুল আলমের সম্পৃক্ততার কোনো কথা বলা হয়নি। তাঁকে বাঁচাতেই নিয়ম রক্ষার দায়সারা এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে ওসিএলএসডি তারেকুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পের সভাপতিদের বরাদ্দ অনুযায়ী চাল-গম দেওয়া হয়। গুদামের বাইরে গেলে তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি চাল-গম বিক্রির সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নই।’
 

জব্দ করা চাল-গমগুলো যেসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে, এর প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি।

Side banner