• ঢাকা
  • রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

রামগতি-সুবর্ণচর ভাঙা ভুলুয়া ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার


লক্ষ্মীপুর টাইমস | স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০১৭, ১০:১৬ পিএম রামগতি-সুবর্ণচর ভাঙা ভুলুয়া ব্রিজ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুলুয়া নদীর উপর ভুলুয়া স্টিল ব্রিজটি গত এক যুগেও সংস্কার হয়নি। ব্রিজটি নির্মাণের প্রায় তিন বছরের মাথায় প্রথমে দু-পার্শ্বের মাটি ধ্বসে সড়ক থেকে ব্রিজটি বিচ্ছিন্ন হয়, পরবর্তীতে মরিচা ধরে পাটাতনগুলোও ভেঙ্গে যায়। এতে এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে ব্রিজটি।

জানা যায়, নোয়াখালীর আদী নাম ‘ভুলুয়া’ খালের উপর ২০০০ সালের দিকে তৎকালীন সরকার লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সীমানা ঘেঁসে ২০০ মিটার দৈর্ঘের এ ব্রিজটি নির্মাণ করে। তৎকালীন সময় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের তুমুল দাবীর মুখে ১০নং চর রমিজ উদ্দিন ইউনিয়নের চর আফজল গ্রামের (চৌধুরী বাজার সংলগ্ন) ৫নং ওয়ার্ডে ব্রিজটি করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ব্রিজটি নির্মাণ হওয়াতে দুই অঞ্চলের জনপদের মানুষের মধ্যে মিলন ঘটে। এ ব্রিজটি দিয়ে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ নোয়াখালীর সুবর্ণচর হয়ে জেলা শহর মাইজদী, দেশের অন্যতম ব্যবসায়ীক কেন্দ্র চৌমুহনী, পাশ্ববর্তী জেলা ফেনী এবং ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সহজে যাতায়াত করার সুযোগ পায়। এ ছাড়া ভোলা জেলার মানুষও চৌধুরীর হাট খেয়া ঘাট হয়ে এ ব্রিজটির উপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে। একই সাথে ব্রিজটি নির্মাণ হওয়ার পর থেকে রামগতি উপজেলায় কৃষিতেও বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করে। এক কথায় ব্রিজটির কারণে দুই অঞ্চলের মাঝে গড়ে উঠেছিল অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন। বর্তমানে ব্রিজটি দিয়ে কোন গাড়ি পারাপার হতে না পারায় লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পুঙ্গত্ব বরণও করেছে।

পূর্ব-পশ্চিম মুখি ব্রীজটির দুই দিকে পাকা রাস্তা। নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ব্রিজের সামনের মাটি ধ্বসে নদীতে পড়ে যাওয়ায় ব্রিজ হতে রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্রিজের উপরের পাটাতন নষ্ট হয়ে ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কিছু লোক বিচ্ছিন্ন হওয়া ব্রিজের সাথে কাঠযুক্ত করে কোনমতে হালকা যান চলাচলের ব্যবস্থা করেছে।

সিএনজি অটোরিকশা চালক হিমেল জানান, স্থানীয় কয়েকজন যুবকের উদ্যেগে ব্রিজের গার্ডার স্থানে কাঠ দিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে। দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার করে দুই এলাকার মানুষের পুনঃমিলন ও অর্থনীতিতে উন্নতি ঘটবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর- এলজিইডির রামগতি উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী জি. এম. কামাল বলেন, এ নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা হলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে ব্রিজটি সংস্কারের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

Side banner