• ঢাকা
  • রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Safe Diagnostic Center

শাবান মাসের ফজিলত


লক্ষ্মীপুর টাইমস | অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২০, ০৬:৪০ পিএম শাবান মাসের ফজিলত

চলছে বরকতময় মাস শাবান। বিদায় নিয়েছে বরকতময় মাস রজব। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের আগের এ দুই মাস (রজব ও শাবানে) ইবাদত-বন্দেগি, রোজা পালন ও দোয়ার মাধ্যমে রমজানের প্রস্তুতি নিতেন।

ইতিমধ্যে শাবান মাসেরও ৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। অথচ মানুষ রমজানের প্রস্তুতির এ মাসটিকে বেমালুম ভুলে গেছে। রজব ও শাবান মাসে বিশ্বনবি বেশি বেশি রোজা রাখতেন।

রজানের প্রস্তুতিস্বরূপ এ দুই মাস ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকতেন বিশ্বনবি। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা শাবান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল সম্পর্কে বলেছেন-
আমি তাঁকে (রাসুলুল্লাহ) শাবান মাসের মতো এতো বেশি রোজা রাখতে অন্য কোনো মাসে দেখিনি।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সারা বছরই নফল রোজা রাখতেন। সপ্তাহে সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। কিন্তু রজব মাসের পর শাবান মাসেও বিশ্বনবি একাধারে রোজা রাখতেন।

শাবান মাসে ধারাবাহিক রোজা রাখতে দেখে সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসুল! আপনি শাবান মাসে যেভাবে রোজা রাখেন, অন্য মাসগুলোতে তো এভাবে রোজা রাখতেন না।

জবাবে রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এটা রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস। এ মাস সম্পর্কে মানুষ উদাসিন থাকে। এটা এমন এক মাস, যে মাসে আল্লাহর কাছে বান্দার আমল উপস্থাপন করা হয়। আমি এটা ভালোবাসি যে, রোজাদার অবস্থায় আমার আমল উপস্থাপন করা হোক।'

এ মাসজুড়ে বিশ্বনবি একটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। আর তাহলো-
اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।'

অর্থ : হে আল্লাহ! শাবান মাসে আমাদের বরকত দান করুন আর আমাদের রমজানে পৌঁছে দিন।'

>> হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে, সে রাতে তোমরা তা ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং পরদিন রোজা রাখ।’ (ইবনে মাজাহ)

>> প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শাবান হচ্ছে আমার মাস, যে কেউ এ মাসে আমাকে সাহায্য করবে আল্লাহ তাআলা তার ওপর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল করবেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সাহায্য করা বলতে তাঁর সুন্নতের ওপর আমল করাকেই বুঝান হয়েছে।

তিনি শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা পালনের পাশাপাশি ইসতেগফার ও দরুদ শরিফ পাঠের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘হিজরি বছরের তিনটি মাস তথা রজব, শাবান ও রমজান; এ তিনটি মাসেই অধিক ইস্তেগফার ও দরুদ শরিফ পাঠের সুপারিশ করা হয়েছে। অবশ্য তম্মধ্যে শাবান মাসের ওপর বেশি তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করে শাবান মাসের হক আদায় করার শ্রেষ্ঠ সময় এখনই। সময়ের সদ্ব্যবহার করে ইবাদত-বন্দেগি-রোজা পালন করা জরুরি।

উল্লেখ্য, ১৪৪১ হিজরি সনের রমজান পূর্ব অর্ধ শাবান বা লাইলাতুল বারাআত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এ রাতে মুসলিম উম্মাহ ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করবে। মুমিন মুসলমান করোনাসহ যাবতীয় মহামারি থেকে বেঁচে থাকার জন্য অর্ধ শাবান খ্যাত লাইলাতুল বারাআতে আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শাবান মাসজুড়ে রমজানের প্রস্তুতি নিতে এবং করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত দোয়াটির মাধ্যমে এ মাসের বরকত ও রমজানের রহমত বরকত ও মাগফেরাত লাভ করার তাওফিক দান করুন।

মুহাদ্দিসিনে কেরামদের একটি মতামত দিয়ে শেষ করতে চাই- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানিত স্ত্রীগণের মধ্য থেকে যাদের রমজানের রোজা ছুটে যেতো। সে রোজাগুলো তারা সারা বছর কাজা করার সুযোগ পেতেন না এবং শাবান মাসেই ভাংতি রোজাগুলো কাজা করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের সঙ্গে রোজা রেখেই মাসটি অতিবাহিত করতেন।

Side banner